আপনার সন্তান অবসাদে ভুগছে না তো?

বাচ্চাদের অবসাদ এবং তার প্রতিকারঃ 

সাত বছরের রূপসার রোজই খুব মন খারাপ হয়ে যায় স্কুল থেকে ফেরার পর। কত কি বলার থাকে তার মাম্মামকে, কিন্তু কিছুই বলা হয়না। কারণ তার মা ওই সময় অফিসে থাকে। তিতলি অনেকবার মা কে স্কুল থেকে ফিরেই ফোন করেছে, কিন্তু মা ফোনে একদম বেশীক্ষণ কথা বলে না তখন। শুধু জিজ্ঞেস করে সে টিফি ন খেয়েছে কিনা, ক্লাসওয়ার্কে স্টার পেয়েছে কিনা। কিন্তু কোনদিন জিজ্ঞেস করেনা মহুলের সাথে আড়ি হল কেন, সুপর্ণার মায়ের মতন কেন তার বক্সে মায়ের হাতের বানানো লুচি তরকারি থাকেনা। 

মা বাবা যখন বাড়ী ফেরে তখন ওর প্রায় ডিনার টাইম। আর কিছু গল্প করতে ইচ্ছেই করেনা ওর। মনখারাপ নিয়েই ঘুমোতে চলে যায়। এরকম দিনের পর দিন চলতে চলতে হঠাৎ একদিন রূপসার মা বাবা আবিষ্কার করল রূপসা সবার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে। ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে উনি বললেন রূপসা অবসাদের শিকার। 

বাচ্চারা অবসাদের শিকার হলে বিভিন্ন রকম উপসর্গ দেখা যায়:

১। তাদের মধ্যে extreme আচরণ দেখা যেতে পারে। দিনের একটা সময়ে হয়তো একদম চুপচাপ, আবার কখনো খুবই মারনাত্মক। স্বাভাবিক আচরণ খুব একটা করেনা। 

২। সমস্ত ধরণের কাজেই ‘না পারবনা, আমি বাজে’ এই ধরণের কথা বলার প্রবণতা দেখা যায়। 

৩।অকারণে তাদের মধ্যে অপরাধবোধ কাজ করে। 

৪। মৃত্যু সমন্ধে তাদের জানতে চাওয়া প্রবল হয়ে ওঠে। 

৫।পড়াশোনা বা নিজের পছন্দসই কাজে পাঁচ সাত মিনিটের বেশী মন বসাতে পারেনা। 

৬। খুব সামান্য ব্যাপারেই প্রচন্ড কান্নাকাটি করে। বিশেষত: কখনো তাকে criticise করা হলে। তুলনাভিত্তিক আলোচনাও এদের পক্ষে মারাত্মক। 

 

অতিরিক্ত অবসাদ অনেকসময়ই ডেকে আনে আত্মহত্যার প্রবণতা। 

 

কি কি উপসর্গ দেখলে আমরা বুঝব বাচ্চাদের মধ্যে এই প্রবণতার জন্ম নিচ্ছে?

১। মৃত্যু সমন্ধে ইতিবাচক চিন্তা বা সে সমন্ধে বিভিন্ন ভিডিও বা বই পড়া। 

২। নিজের প্রিয় জিনিস অন্যদের দিয়ে দেওয়া। 

৩। নিজেকে আঘাত করার প্রচেষ্টা। 

৪।আচার ব্যবহার বা জীবনযাত্রায় বেপরোয়া ভাব। 

৫। সব কিছু কাজের মধ্যেই দীর্ঘশ্বাস বা বিদায়সুলভ শব্দচয়ন। 

বাচ্চাদের মধ্যে অবসাদ আসতে পারে বিভিন্ন কারণে। পরিবারে কারোর এ অসুখ থাকলে বা সিজেফ্রেনিক হলে অথবা পারিপার্শিক প্রভাবে। এই পারিপার্শিক প্রভাবের একটা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল পেরেন্টিং। অভিভাবকেরা যতটা সম্ভব যত্নের সাথে যদি এই কাজটি করতে পারেন ততই বাচ্চাদের অবসাদ থেকে দূরে রাখা সম্ভব। এবং এটা করতে হবে একেবারে প্রাথমিক বয়স থেকে। বাচ্চার সাথে পারিপার্শিক পরিস্থিতি নিয়ে গল্প করা,স্কুলের বন্ধুদের সমন্ধে জানা, তাদের মাঝে মাঝে বাড়ীতে ডাকা, মাঝে মাঝে স্কুলে বাচ্চাকে pick up করার surprise দেওয়া ভীষণ জরুরি। কর্মরত মা বাবা দের নিয়ম করে নিজেদের গ্যাজেটমুক্ত রেখে কোয়ালিটি টাইম কাটানো উচিত বাচ্চাদের সাথে। এর ফলে মা বাবা বাচ্চা একে অপরের সাথে মানসিকভাবে যুক্ত থাকতে পারে। তখন বাচ্চাদের মধ্যে অবসাদ আসার সম্ভাবনাও কমে। বাচ্চাদের বিভিন্ন রকম সামাজিক কল্যানমূলক কাজের সাথে যুক্ত রাখলে ওরা নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ ভাবতে শুরু করবে। তখন ওদের মধ্যে আস্তে আস্তে জীবন সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব তৈরী হবে।